শুধু স্টেডিয়ামের জন্য ১১ কিলোমিটার সেতু

বিশ্বকাপ ফুটবলকে টার্গেট করে রাশিয়ার সরকার যে সব উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১১ কিলোমিটার সেতু। একটি নয়, দুই দুটি সেতু পাশাপাশি, মাত্র কয়েক হাত দূরত্ব। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ট্রেন। স্টেডিয়ামের ট্রেন স্টেশনে নামলে মনে হবে কোনো বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছেন। আধুনিকতার সর্বোচ্চ কারুকাজ করা হয়েছে।

স্টেডিয়ামটি সাগরের পাশে এমন পরিবেশ যে কাউকে কাছে টেনে নেয়। সেন্ট পিটারবার্গস স্টেডিয়ামটি ফিনল্যান্ড সাগরের কাছে, উপসাগরের কোল ঘেঁষে উঠেছে। এমন মনোরম পরিবেশ মুগ্ধ করে। মায়াবী হাতছানি দেয়। স্টেডিয়াম এলাকার নির্মাণ শৈলী আমেরিকা, কানাডার মতো দেশকেও তাক লাগিয়ে দেয়। স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সাগরে নোঙ্গর করে আছে ফিনল্যান্ড, সুইডেনসহ নানান দেশের জাহাজ। তিন দিনের জন্য জাহাজ সাগর ভ্রমণে নিয়ে যায়। ফিনল্যান্ডে ঢোকার পথ এখানেই। এই শহর দিয়ে ফিনল্যান্ডে ঢোকার খরচ খুব কম। ভিসা থাকলে লেগুনা গাড়িতে ফিনল্যান্ড যেতে মাত্র ৮শ টাকা খরচ।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম এলাকায় রাতের দৃশ্য আরো মনোলোভা। আলোকিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। একবার এই এলাকায় পা রাখলে আর যেন বের হতে মন চাইবে না। সারাক্ষণ মানুষের আনাগোনা। শিশু বাচ্চা বুড়ো কিংবা বুড়ি। সবার মিলন কেন্দ্র হয়ে গিয়েছে। তার উপর বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এই জায়গাটি যেন উৎসবের স্থান। ঘর ছেড়ে সারাদিনে একবার হলেও এখানে আসা চাই। ছবি তোলা, স্কেটিং করা, সাইকেল চালানো, ট্রলিতে বাচ্চাকে বসিয়ে হেঁটে বেড়ানো, গার্ল ফ্রেন্ড, বয় ফ্রেন্ডকে নিয়ে সময় কাটানো, রাশান সুন্দরীর আনাগোনা হৃদয়ে দোলা দেয়। সহজেই মুগ্ধতা ছড়ায়।

১৭০৩ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ এই শহর গড়ে তোলেন। তার নামেই শহর। তার নামেই স্টেডিয়াম। নান্দনিকতায় ভরা। মস্কো হতে সেন্ট পিটারবর্গাস শহরটি একেবারেই আলাদা। আবহাওয়া এখন বাংলাদেশের মতোই। পিটার দ্যা গ্রেট এই শহরের স্থপতি। হল্যান্ড গিয়েছিলেন। সেখানে নদী আর ক্যানেল দেখে এসে সাগরের পাশে গড়ে তুলেছিলেন শহরটি। ১৯১৮ সাল পর্যন্ত রাজধানী ছিল এটি। পরে রাজধানী হয় মস্কো। কয়েকবার নাম পরিবর্তন হলেও শেষ পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবার্গ নামেই  থেকে যায় রাশিয়ার অন্যতম আধুনিক এই শহরটি। শহরের ভেতরে ৩০০ নদী আছে। ৮০০ ব্রিজ আছে। চোখ জুড়ানো আর্কিটেক্ট ভিউ। যে কোনো ভ্রমণ পিপাসুর জন্য সেন্ট পিটার্সবাগ অন্যতম প্রথম পছন্দ। এটিকে বলা যায় সংস্কৃতির শহর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বরিশালের ছেলে ইলিয়াস সেন্ট পিটারবার্গে এসেছেন স্কলারশিপ নিয়ে। পুরোটা রাশিয়া সরকারের অর্থে পড়েছেন। নাট্যতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা মেধাবী এই ছাত্র বললেন,‘সেন্ট পিটারবার্গে ৩০০ নাট্যশালা রয়েছে। নাটক দেখতে হলে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। বসবাস করেন প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। এখানকার মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। অন্যান্য শহরের চেয়ে আলাদা করে চেনা যায়।’

সেন্ট পিটারবার্গসে একটি সেমিফাইনালসহ সাতটি খেলার সূচি দেয়া আছে। ব্রাজিল ও কোস্টারিকা এবং নাইজেরিয়া ও আর্জেন্টিনার ১টি করে খেলাও আছে।
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *