কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?

যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামি বছর। খুব জোরেশোরে না হলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে রিপাবলিকান ডেমোক্রেটিক উভয় দলেই।

যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামি বছর। খুব জোরেশোরে না হলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে রিপাবলিকান ডেমোক্রেটিক উভয় দলেই। রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প মোটামুটি নিশ্চিত।

বিরোধীপক্ষ অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক দল থেকে তাঁকে চ্যলেঞ্জ করতে পারেন কে বা কারা সেটিই বড় প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

গতবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। হিলারী ক্লিন্টনের কাছে তিনি প্রাইমারীতে হেরে যান। ভার্মন্ট সেনেটর স্যান্ডার্সের নীরবতা দেখে অনেকে ভেবেছিলেন তিনি হয়তো আর নির্বাচন করবেন না। কিন্তু না। তিনি নির্বাচন করবেন এমনটা প্রায় নিশ্চিত।

৭৭ বছর বয়সী রাজনীতিক স্যান্ডার্স তরুন প্রজন্মের ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন গতবার। তাঁর কলেজ টিউশন ফ্রি করা, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং সকল আমেরিকানের জন্যে সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধি করাসহ বেশকিছু পরিকল্পনা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।

স্বতন্ত্র সেনেটর হলেও তিনি ডেমোক্রেটিক দলের একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার বার্নি স্যান্ডার্স তাঁর সমর্থকদের কাছে ছাড়া এক ইমেইল বার্তায় প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরুর অনুরোধ করেছেন সকলকে। ডনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক স্যান্ডার্স ইমেইল বার্তায় বলেন আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্প সবচেয়ে বিপদজনক প্রেসিডেন্ট। তিনি একটি অডিও বার্তাও ছাড়েন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা ঘোষণা করে।

তাতে স্যান্ডার্স বলেন, “আমি বার্নি স্যান্ডার্স। আমি প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা ঘোষণা করছি। আমি অনুরোধ করছি প্রতন্ত্য অঞ্চল থেকে প্রচারণা শুরু করার লক্ষ্যে প্রতিটি রাজ্যে অন্তত ১ মিলিয়ন স্বেচ্ছাসেবীকে কাজ করতে হবে”।

ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “আমরা এমন একজনের বিরুদ্ধে লড়তে যাচ্ছি যিনি একজন মিথ্যুক, প্রতারক, বর্নবাদী, যৌন বৈষম্যকারী, বিদেশাতংকগ্রস্থ লোক, এবং আমেরিকার গনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে স্বৈরতন্ত্রের দিকে আমাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে”।

প্রাইমারী নির্বাচনের অনেক দেরী থাকলেও ডেমোক্রটিক দল থেকে বেশ ক’জন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হবার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

এদের মধ্যে অন্যতম সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, কোরি বুকার, এমি ক্লোবুচার, ক্রিস্টেন জিলিব্রান্ড, কামালা হ্যারিস। ২০২০ সালের রাজনীতিকদের মধ্যে বার্নি স্যান্ডার্সকে ওপরে রাখা হয়েছে নানা জরিপে। তবে ডেমোক্রেটিক দলের মধ্যে থেকেই বার্নি স্যান্ডার্সকে শক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে সকলেই ধারনা করছেন।

ভয়েস অব আমেরিকায় আমাদের জাতীয় সংবাদদাতা জিম মেলোন তার একটি রিপোর্টে সেনেটর ওয়ারেনের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য তুলে ধরেন, “যুক্তরাস্ট্রের সর্বনিম্ন বেতন এমন হওয়া দরকার যা দিয়ে একজন মা বা বাবা তার সন্তানদেরকে দারিদ্র মুক্ত রাখতে সমর্থ হন।

কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটা হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি”।কোনো সমাবেশে এমন বক্তব্য দেয়াটা রাজনৈতিক এজেন্ডা। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতাকে সামনে রেখেই তিনি কথা বলছেন।

নিউইয়র্ক সেনেটর ক্রিস্টেন জিলিব্রান্ড ২০২০ সালে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হবেন বলে অনেকের ধারনা। এছাড়া হাওয়াই থেকে প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য তুলসি গ্যাব্বার্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সেনেটর কামালা হ্যারিস, মিনেসোটার সেনেটর এ্যামি ক্লোবুচার; টেক্সাস কংগ্রেসম্যান বেটো ও’রোরকে, নিউজার্সি সেনেটর কোরি বুকার, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী।

জো বাইডেন এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিচিত; তবে কেউ সুস্পস্টভাবে এখনো বলতে পারে না কার কি সম্ভাবনা। যেমনটি বললেন University of Virginia এর রাজনীতি বিশ্লেষক ল্যারী সাবাতো, “বাইডেন যদি শক্তিশালি প্রার্থী নাও হয়; জনমত জরিপে তিনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে”।

ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থী বেশী হওয়াটাই ভালো এবং প্রাইমারী নির্বাচনের যুদ্ধটা যতো শক্তিশালি ও লম্বা হয় ততোই মঙ্গল, বললেন বিশ্লেষক জিম কেসলাম। “আমার ধারনা প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় এবার প্রার্থীর সম্ভাবনা অনেক পরিস্কার হয়ে যাবে। ২০০০ বিল ব্র্যাডলির চেয়ে আল গোর বেশি পেয়েছিল বা ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সকে টপকে হিলারী ক্লিন্টন বেশী সমর্থন পেয়েছিল; এবার বিষয়টি এমন না। এবার মনে হয় প্রতিদ্বন্দ্বীতা খুব শক্ত হবে”।

রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনপ্রিয়, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তার সার্বিক জনপ্রিয়তা কমছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও প্রাইমারী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন ওহাইও গভর্ণর জন কেসিকের দ্বারা, “আমি এই দেশকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারি”।

রিপাবলিকান দলের রাজনীতিকদের মধ্যে থেকে ট্রাম্পেকে পুননির্বাচিত করার প্রয়াস শুরু হয়েছে জোরে শোরেই। সকলে মিলেই চেষ্টা করছেন তাঁকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট বানানোর। ফলে রিপাবলিকান দলের মধ্যে থেকে কেউ তাঁর জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ানোটা সহজ হবে না।

Credit – VOA Bangla

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *